জয় শ্রী কৃষ্ণ

জয় শ্রী কৃষ্ণ

যারা ঈশ্বরের কাছে পূ্র্ণ আত্মসমর্পণ করবে তারা সাধনা করতে পারুক বা না পারুক, ঈশ্বর তাদের সমস্ত বোঝা বহন করবেন। প্রভু নিজেই তাদের হয়ে সাধনা করে দেবেন।

জয় শ্রী কৃষ্ণ

আমাদের প্রতিদিন খাদ্যের আহার তিন-ধরনের গুনের দ্বারা প্রভাবিত হয়।যেমন-সত্ব,রজ,তম।

১- তমগুনের আহার হল যেমন-পচা ও বাসি খাবার,শুটকি,বেজী,সাপ,শামুক,কাকড়া,মদ,গাজা ইত্যাদি ইত্যাদি। ২- রজগুনের আহার হল যেমন-অতি স্বাদযুক্ত বা অতি মসলা যুক্ত খাবার,বড় বড় মাছের তরকারী, মাংস,বিরানী ইত্যাদি ইত্যাদি। ৩- সত্ব গুনের আহার হল যেমন-বিভিন্ন শাক, সবজি,আতপ অন্ন,সাগু,ফল মুল,দুধ ঘি,ছানা দ্বারা তৈরি খাদ্য ইত্যাদি ইত্যাদি। তারপরেও ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেছেন,হে অর্জুন তুমি এই তিন গুনকেও অতিক্রম কর।…

হরে কৃষ্ণ

ভগবানের পূজা করা সবারই কর্তব্য।তাতে ভগবানের আশীর্বাদ লাভ হয়।

যে ব্যক্তি পূজা করতে অসমর্থ,সে পূজার দ্রব্যাদি ভগবানের পূজার উদ্দেশ্য এনে দিতে পারে।যে ব্যক্তি পূজার দ্রব্য আনতেও অক্ষম,সে ভগবানের পূজা কেবল দর্শন করতে পারে।শাস্ত্রে বলা হয়েছে,কৃষ্ণ পূজা দর্শন করেই দূঃখময় সংসার সমুদ্র উত্তীর্ণ হওয়া যায়।যে ব্যক্তি কৃষ্ণ পূজা দর্শন পর্যন্তও করতে অক্ষম,সে কৃষ্ণ নাম জপ করতে পারে।যে ব্যক্তি কৃষ্ণ নাম জপ উচ্চারণ করতেও অক্ষম,সে কৃষ্ণ…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

শ্রীকৃষ্ণই পরমাত্মা এবং নিরাকার ব্রহ্ম,এ সম্পর্কে শাস্ত্রসিদ্ধান্ত কি?

যারা শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ঈর্ষান্বিত তারা শ্রীকৃষ্ণকে নিরাকার ব্রহ্মের উৎস বলতে নারাজ। কিন্তু শ্রীকৃষ্ণ নিজেই, নিজের অবস্থান সম্পর্কে অর্জুনকে ভগবদ্গীতাই বর্ণনা করছেন। সর্বস্য চাহং হৃদি সন্নিবিষ্টো মত্তঃ স্মৃতির্জ্ঞানমপোহনং চ। বেদৈশ্চ সর্বৈরহমেব বেদ্যো বেদান্তকৃদ্ বেদবিদেব চাহম্।। শ্রীকৃষ্ণ বলছেন, হে অর্জুন আমি সমস্ত জীব হৃদয়ে অবস্থিত পরমাত্মা, আমি সকলের স্মৃতি, জ্ঞান ও বিলোপের কারণ। আমি বেদের জ্ঞাতব্য বেদান্তকর্তা…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

আমাদের সুখ এবং আনন্দের কারণ কে?

মাছ যেমন জল ছাড়া বাঁচতে পারে না,ঠিক সেই রকম জীব শ্রীকৃষ্ণকে ছাড়া বাঁচতে পারে না।মাছের সুখের কারণ হচ্ছে জল,ঠিক সেইরকম আমাদের সুখ ও আনন্দের কারণ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণ।ভগবদগীতায় ভগবান কৃৃষ্ণ স্পষ্টভাবে বর্ণনা করেছেন যে,আমাদের সুখ ও আনন্দের কারণ হচ্ছে তাঁকে বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে তাঁর ভজনা করা “সুহৃদং সর্বভূতানাং জ্ঞাত্বা মাং শান্তিমৃচ্ছতি”- (গীতা ৫/২৯)।সুতরাং,আমরা যদি সুখী…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

শ্রীকৃষ্ণচন্দ্র কি আমাদেরকে গোলক বৃন্দাবনে নিয়ে যাবেন?

যারা কৃষ্ণগত প্রান তাদের দখলে শ্রীকৃষ্ণ।প্রকৃত পক্ষে শ্রীকৃষ্ণ করোরই নয়।কৃষ্ণচন্দ্র ভগবদগীতার ৯নং অধ্যায়ের ২৯নং শ্লোকে বর্ণনা করেন-আমি আমার ভক্তের, কেননা তারা আমাকে খুব ভালবাসে,অন্যদের থেকে আমি সেই ধরনের ভালবাসা পাই না।আমি সদা তাদের হৃদয়ে বাস করি।যারা কৃষ্ণগত প্রাণ, যাদের চিন্তা চেতনা শ্রীকৃষ্ণকে প্রসন্ন করা,যারা শাস্ত্র বিরোধী ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে লিপ্ত নয়,সেই সমস্ত অনন্য ভক্তদের শ্রীকৃষ্ণ তার…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

কেন আমরা কৃষ্ণভক্তির অনুশীলন করতে পারি না?

কৃষ্ণভক্তি হচ্ছে সদা নির্মল।সেখানে শাস্ত্র বিরুদ্ধ জড় ইন্দ্রিয় তৃপ্তির দাগ নেই।আমরা যখন শাস্ত্র বিরুদ্ধ অবৈধ ইন্দ্রিয় তৃপ্তি সাধনে নিযুক্ত হই, প্রাথমিক পর্যায়ে তা আমদের খুব ভাল লাগে।কিন্তু যখন তার সমাপ্তি হয় তখন তা আমাদের জীবনে হতাশা উদ্বিগ্নতা রূপ দুঃখের কালো ছায়া সমস্ত দিক থেকে আমদের আক্রান্ত করে।ফলে এরূপ অবস্থায় আমাদের মন কখনও কৃষ্ণভক্তির অনুশীলনে যত্নশীল…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

ভক্তের কাছে কি বিপদ আসতে পারে?

মনুষ্যজীবনে ভক্ত হওয়ার জন্য প্রচেষ্টা করা উচিত।একজন ভক্ত সবসময় নিরাপদ।এই জড়জগতের মধ্যে বড় বিপদ হচ্ছে শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে যাওয়া এবং অশাস্ত্রীয়, অবৈধ ইন্দ্রিয় তৃপ্তিতে নিযুক্ত থাকা।শ্রীল প্রভুপাদ ভগবদগীতা ৮ অধ্যায়ে ৪ নং শ্লোকের তাৎপর্যে বণর্না করেন-“কৃষ্ণ ভক্তের একটি বিশেষ গুণ হচ্ছে-তিনি স্থান,কাল বিবেচনা না করে অবচলিতভাবে সর্বদাই শ্রীকৃ ষ্ণকে চিন্তা করেন।তার কাছে কোন বাধা-বিঘ্ন আসতে পারে…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

কিভাবে আমরা ভগবানের নির্দেশ মানতে পারি?

আমাদের প্রয়োজন সরাসরিভাবে কৃষ্ণভাবনা গ্রহণ করা।কিভাবে তা আমরা গ্রহন করতে পারি?হ্যাঁ খুব সহজ পদ্ধতি শুধুমাত্র ধর্মের চারটি স্তম্ভ (সত্য,শৌচ,দয়া,তপ)ধ্বংসকারী আমিষআহার,অবৈধ যৌনসঙ্গ, নেশা,দ্যুত ক্রীড়া ত্যাগ করে হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্র জপ ও কীর্তন করা।শ্রীল প্রভুপাদ শ্রীমদ্ভগবদগীতার ৬ অধ্যায়ের ৬ নং শ্লোকের তাৎপর্যে বর্ণনা করেন,কেউ যখন সরাসরিভাবে কৃষ্ণভাবনামৃত গ্রহন করেন তখন সে আপনা থেকেই ভগবানের আজ্ঞার প্রতি সম্পূর্ণভাবে শরণাগত…

প্রভুপাদ

কে গুরু হতে পারে ?

“ষটকর্ম নিপুনো বিপ্রো মন্ত্রতন্ত্র বিশারদঃ। অবৈষ্ণবো গুরুর্ন স্যাদ্ বৈষ্ণবঃ শ্বপচো গুরুঃ।।” যজন,যাজন,অধ্যয়ন,অধ্যাপনা,দান ও প্রতিগ্রহ এই ছয় কর্মে নিপুন এবং তন্ত্রমন্ত্র বিশারদ কোনও ব্রাহ্মণও গুরু হতে পারে না, যদি তিনি বিষ্ণু ভক্ত না হন। বরং চণ্ডাল কূলে আবির্ভূত হয়েও বিষ্ণু ভক্তি পরায়ন ব্যক্তি গুরু হওয়ার যোগ্য। -(পদ্মপুরান) শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু বলেন- “কিবা বিপ্র, কিবা ন্যাসী, শূদ্র কেনে…