হরে কৃষ্ণ

ভগবানের সপ্তদশ অবতার শ্রীল ব্যাসদেব কর্তৃক বেদ,পুরানাদি শাস্ত্র লিখিত হওয়ার, এ সমস্ত শাস্ত্র কি অভ্রান্ত,অপরিবর্তনীয়? তা কি মানুষকে পশুচেতনা থেকে পরমার্থ চেতনায় উন্নীত করবে?

সত্যিকার অর্থে, আমরা যা কিছু আবিষ্কার করি, তা প্রথমে আমরা নির্ভুল বলে ঘোষনা করি, কিন্তু পরবর্তীতে আবার সেখানে বিভিন্ন ভুল পরিলক্ষণ করি। আবার অন্যদিকে আমরা চিন্তা করি,আমার আবিষ্কারটি মানব কল্যাণে অবদান রাখবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা গেল,সেটিতো আমাকে তেমন লাভবান করল না বরং তা অন্যের ধ্বংসের কারন হল। এভাবে আমাদের ভবিষ্যৎ চিন্তা-চেতনা অপূর্ণ ও পরিবর্তনশীল। কিন্তু…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

কেন মানুষ পৃথিবীতে আসে ? কি ভাবেই বা সে ভগবদ্ ধামে যেতে পারে ?

শাস্ত্রে বলা হয়েছে- কৃষ্ণ ভুলি’ সেই জীব অনাদি-বহিমুর্খ। অতএব মায়া তারে দেয় সংসার-দুঃখ। ”পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে ভুলে জীব অনাদিকাল ধরে জড়া প্রকৃতির প্রতি আকৃষ্ট হয়ে রয়েছে। তাই মায়া তাকে এই জড় জগতে নানা প্রকার দুঃখ প্রদান করছে” ( শ্রীচৈতন্য চরিতামৃত মধ্য ২০/১১৭) চিন্ময় জগৎ ও জড় জগতের সন্ধি সীমার তটস্থা শক্তিতে অবস্থিতি কালে জীব এই…

হরে কৃষ্ণ

ভগবৎ ভজনের ৫টি স্তরঃ- আপনি কোন স্তরে আছেন?

ধাপ১) পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে সঠিক ভাবে জানা। ধাপ২) নাম সংকীর্ত্তন অনুষ্ঠান করা। ধাপ৩) কৃষ্ণ নাম প্রচার করা। ধাপ৪) কৃষ্ণ সেবায় ব্রতী হওয়া। ধাপ৪) কৃষ্ণ প্রেমে লীন হয়ে যাওয়া। (চুড়ান্ত স্তর)।

হরে কৃষ্ণ

আসক্তিটাই হচ্ছে সবচাইতে বড় বিষয়-

শ্রীগীতানুসারে, আমাদের মধ্যে যেরুপ আসক্তি বর্তমান থাকবে, আমরা পরবর্তী জন্মে ঠিক সেরুপ একটি দেহ লাভ করবো। যেমনঃ- ১) যাদের প্রচুর মাংসাহারের ইচ্ছা, তারা শিয়াল, বাঘ, সিংহ অথবা অন্য কোন মাংসাশী প্রাণীর দেহ লাভ করবে। ২) যিনি সংসারের প্রতি আসক্ত, পর জন্মে তিনি আবার এই সংসার সাগরেই ফিরে আসবে। ৩) যার মন শুধুমাত্র টাকা পয়সা, ধন…

হরে কৃষ্ণ

নবিবধা ভক্তির মূখ্য নয়জন মহান উপাস্য?

ভক্তির নয়টি অঙ্গ- ভক্তির এই নয়টি অঙ্গ হল- ১) শ্রবণ ২) কীর্ত্তন ৩) অর্চ্চন ৪) বন্দন ৫) স্মরণ ৬) পাদসেবন ৭) দাস্য ৮) সখ্য ও ৯) আত্ম নিবেদন। ভক্তির এই নয়টি অঙ্গ যাজন করে কেউ কেউ ভগবদ্ধাম প্রাপ্ত হয়েছিলেন। ১) ভগবানের দিব্যনাম শ্রবণ করে ভগবদ্ধাম লাভ করেছিলেন —শ্রীল শুকদেব গোস্বামী। ২) ভগবানের দিব্যনাম কীর্ত্তন করে…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

প্রশ্নঃ- কিভাবে দেবদেবী গণকে সম্মান জানাতে হয়?

উত্তরঃ- একজন কৃষ্ণভক্ত জানেন যে দেবদেবীগণ সকলেই শ্রীকৃষ্ণের দ্বারা শক্তিপ্রাপ্ত শ্রীকৃষ্ণের আজ্ঞানুবর্তী সেবক-সেবিকা। এদের প্রত্যেককেই বিশেষ বিশেষ সেবাভার বা কার্যভার দেওয়া হয়েছে। কৃষ্ণভক্ত দেবদেবীগণকে কখনই অসম্মান করেন না, তিনি সকল দেবদেবীগণকে শ্রীকৃষ্ণর বিরাট-রূপের বা বিশ্বরূপের অবিচ্ছেদ্য অংশ রূপে দর্শন করেন এবং তাঁদেরকে সম্মান করেন, প্রণাম করেন, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেন। অবশ্য, কৃষ্ণভক্ত তাদের কাছ…

হরে কৃষ্ণ

হরে কৃষ্ণ

কৃষ্ণ নাম জপেই যদি আমরা এতো আনন্দ অনুভব করি, তাহলে সেই পরমাত্মার সংস্পর্শে আসলে, তার সাথে আলিঙ্গন করলে আমদের কিরুপ আনন্দ লাভ হতে পারে তা আমাদের চিন্তারও অতীত। ভক্তি চারু গুরুমহারাজ।

হরে কৃষ্ণ

প্রশ্নঃ-কতবার মালা জপ করলে কৃষ্ণ দর্শন মিলবে? আসলেই কি তাই?

উত্তরঃ- একবার মুরারী গুপ্ত মহাপ্রভুকে জিজ্ঞেশ করেছিলেন- হে প্রভু আপনি আমাকে বলুন? কতবার কৃষ্ণ নাম জপ করলে শ্রীকৃষ্ণের দেখা পাওয়া যাবে? মহাপ্রভু বলেছিলেন- যদি এমন কোনো সংখ্যা থাকতো তবে সবাই তো সেই সংখ্যা অব্দি জপ করে প্রাণ গোবিন্দের দর্শন পেত। একবার আকুল হয়ে ব্যাকুলভাবে ভক্তিভরে ডাকলে প্রাণ গোবিন্দ আমার একবারেই দেখা দেয়। জয় আমার প্রাণ…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

প্রশ্নঃ- কিভাবে এই জগত সৃষ্টি হলো?

উত্তরঃ- ভগবান শ্রীকৃষ্ণের একটি অংশ প্রকাশ হচ্ছেন মহাবিষ্ণু। সৃষ্টির আদিতে মহাবিষ্ণু বিরাট রুপ ধারণ করে মহা শুণ্যে শায়িত হলেন। তখন তার দেহের অসংখ্য লোমরন্ধ্র এবং প্রশ্বাস থেকে অনন্তকোটি বুদ বুদ উৎপন্ন করলেন। এই বুদ বুদ গুলোর মধ্যে তিনি আবার গর্ভদোকশায়ী বিষ্ণু রুপে নিজেকে প্রকাশ করলেন। এই এক একটি বুদ বুদ গুলোই হচ্ছে এক একটি বিশাল…

জয় শ্রী কৃষ্ণ

প্রশ্নঃ আমি যদি শ্রীকৃষ্ণভজন না করি, সমাজের নিয়ম বা কর্তব্যগুলি পালন করে চলি। তবে কি আমার সদগতি হবে না?

উত্তরঃ শ্রীমদ্ভাগবতে বলা হয়েছে— য এষাং পুরুষং সাক্ষাদাত্মপ্রভবমীশ্বরম্। ন ভজন্ত্যবজানন্তি স্থানাদ্ ভ্রষ্টাঃ পতন্ত্যধঃ।। (ভাঃ ১১/৫/৩) অর্থাৎ, ‘সমাজ সংসারে মানুষ তার নিজ বর্ণ ও আশ্রমের মধ্যে যাবতীয় নিয়মকানুন বা কর্তব্যকর্ম সম্পাদন করে গেলেও, সাক্ষাৎ সকলের উৎস পরমেশ্বরকে ভজন না করে, তা হলে ভজন অবজ্ঞা হেতু স্বস্থান থেকে ভ্রষ্ট হয়ে সে অধপতিত বা নারকীয় অবস্থায় পতিত হয়।…